ঈশ্বর সাকার না নিরাকার?

বেদ ও সাধারণ জ্ঞান অনুযায়ী তিনি নিরাকার। যদি তার একটি আকার থাকতো তবে তিনি সর্বত্র বিরাজ করতে পারতেন না,কারণ আকার একটা নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ অস্তিত্বকে সূচিত করে। এবং তাই, সেক্ষেত্রে (অর্থাৎ সাকার হলে) তাঁর অস্তিত্ব নির্দিষ্ট সীমানার পরে থাকা উচিত নয়।

ঈশ্বরের আকার শুধুমাত্র দেখা যাবে যদি তিনি স্থুল হন, কারণ আলোক তরঙ্গকে প্রতিফলিত করতে পারে এমন কোনো বস্তুর চেয়ে সুক্ষ্ণ  হলে সে সুক্ষ্ম বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। এখন বেদ স্পষ্ট ভাবে বলে ঈশ্বর সুক্ষ্মতম,ফাঁকহীন এবং সমভাবে সর্বব্যাপী। অতএব, তাঁর কোনো আকার থাকতে পারে না।

যদি ঈশ্বরের আকার থাকে, তার মানে কেউ তার আকার তৈরি করছেন। কিন্তু এটা সম্ভব নয়। যদি কেউ বলেন যে, ঈশ্বর নিজেই নিজের আকার বানিয়েছেন, এর অর্থ তিনি আগে নিরাকার ছিলেন।

যদি আপনি বলে থাকেন যে ঈশ্বর সাকার এবং নিরাকার উভয়ই, এটা সম্ভব নয় কারণ এটা দন্দ্বমূলক।

যদি আপনি বলে থাকেন যে তিনি সময়ে সময়ে দিব্য রূপ গ্রহন করেন, দয়া করে দিব্য রুপ কি তা বোঝান? ধরুন ঈশ্বর একটি মানুষের দিব্যরূপ গ্রহন করলেন। এখন,  আপনি কিভাবে ঈশ্বর পরমাণু এবং অ-ঈশ্বর পরমাণুর সীমা নির্ধারন করবেন? উপরন্তু, যেহেতু তিনি একই ঘনত্বসহ (অভিন্নভাবে) সর্বত্র উপস্থিত, তাহলে আমরা মানব-ঈশ্বর এবং বাকি জগতের মধ্যে পার্থক্য কিভাবে করবে? আর যদি ঈশ্বর সর্বত্র একই থাকেন তাহলে আমরা কিভাবে (তাঁর অস্তিত্বের)  সীমানাটি দেখতে পাব?

মানুষের শরীর হিসেবে যা আমরা দেখি, আসলে, বাকি জগতের সঙ্গে বস্তু এবং শক্তি একটি ক্রমাগত বিনিময়৷ মানুষের শরীরের অংশের এবং বিশ্বের বাকি অংশের প্রতিটি পরমানুকে পার্থক্য করা অসম্ভব একটা ব্যাপার। তাই একই ভাবে মানব শরীরি ঈশ্বরের দেহকে (দেহের পরমানুকে) পৃথক করা অসম্ভব হবে। উদাহরণ স্বরূপ, মানব-ঈশ্বর থেকে থুতু, প্রসাব,ঘাম এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ কি ঐশ্বরিক হবে?

বেদে, ঈশ্বরের আকারের কোনো ধারণা নেই যা ঈশ্বর নিরাকার ভাবে করতে পারেন না, যে তাকে অবশ্যই একটি শরীর ধারন করতে হবে।

Avatar

এই ব্লগসাইট থেকে যদি কোন ভক্তদের বিন্দু মাত্রও লাভ হয়ে থাকে তাহলে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সার্থক হবে বলে মনে করি।

Leave a Comment